
লিওনেল মেসিকে ঘিরেই দীর্ঘ দুই দশক ধরে আবর্তিত হয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের গল্প। তার অবসরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। তবে মেসির বিদায়ে থেমে যাবে না আলবিসেলেস্তেদের পথচলা। বরং সামনে এখন বড় প্রশ্ন—মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনার নেতৃত্বের ভার উঠবে কার কাঁধে?
এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ক্রিশ্চিয়ান ‘কুটি’ রোমেরো। এতদিন মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্দির পর তৃতীয় পছন্দের অধিনায়ক ছিলেন টটেনহ্যাম হটস্পারের এই ডিফেন্ডার। তবে এবার সতীর্থ ও কোচিং স্টাফদের সমর্থনে তাকেই প্রথম অধিনায়ক করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের ড্রেসিংরুমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রোমেরো। মাঠে তার আগ্রাসী মনোভাব, সতীর্থদের সংগঠিত করার দক্ষতা এবং নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা তাকে মেসির উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। মেসিবিহীন দলে রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি সতীর্থদের মানসিকভাবে দৃঢ় রাখার দায়িত্বও থাকবে তার ওপর।
রোমেরোর নেতৃত্বগুণের প্রশংসা করেছেন মেসি নিজেও। আর্জেন্টিনার রক্ষণকে আরও দৃঢ় করে তুলতে রোমেরোর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন তিনি। ফলে মেসির পর অধিনায়ক হিসেবে রোমেরোর নাম সামনে আসাটা অনেকটাই প্রত্যাশিত।
তবে দায়িত্বের সঙ্গে চ্যালেঞ্জও কম নয়। লিওনেল স্কালোনির অধীনে গত কয়েক বছরে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা—এই তিন বড় শিরোপাই নিজেদের ঘরে তুলেছে আলবিসেলেস্তেরা। এসব সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন মেসি। এবার তার অনুপস্থিতিতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই নতুন নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা।
মেসির বিদায় শুধু অধিনায়ক পরিবর্তনের বিষয় নয়; এর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবলে একটি প্রজন্মের পরিবর্তনেরও সূচনা হচ্ছে। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘ ২১ বছরের পথচলা শেষে মেসি সরে দাঁড়ানোয় এখন তরুণদের সামনে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই পরিবর্তনের সময়ে রোমেরোর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা স্কালোনির দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মাঠে তার লড়াকু মানসিকতা আর ড্রেসিংরুমে প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে রোমেরো মেসির রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কতটা সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।