
বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের রাতটি শুধু একটি ট্রফি উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ফুটবল ইতিহাসে এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে নেতৃত্বের প্রতীকী পরিবর্তনের সাক্ষীও হয়েছে সেই ম্যাচ। ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির আবেগঘন অধ্যায়ের বিপরীতে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বমঞ্চ দখল করে নিলেন স্পেনের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল।
রোববার (১৯ জুলাই) অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ইউরো জয়ের দুই বছরের মাথায় বিশ্বকাপ ট্রফিও হাতে তুলে নেন ইয়ামাল। ফলে কৈশোরেই ফুটবলের দুই সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের বিরল কীর্তি গড়লেন তিনি।
মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে উয়েফা ইউরো ও ফিফা বিশ্বকাপ—এই দুটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতা ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার এখন লামিন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপ ফাইনাল জয়ের তালিকায়ও নিজের নাম তুলেছেন ইতিহাসের অন্যতম কনিষ্ঠ তারকা হিসেবে। ১৯৫৮ সালে পেলে, ১৯৮২ সালে জুসেপ্পে বারগোমি এবং ২০১৮ সালে কিলিয়ান এমবাপের পর টিনএজার অবস্থায় বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েছেন ইয়ামাল। একই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তার সতীর্থ পাউ কুবারসিও।
গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে স্পেনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সেই বিশ্বকাপে প্রথম গোল করে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর চেয়েও কম বয়সে এই অর্জন স্পর্শ করেন। তবে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড এখনো ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের দখলেই রয়েছে।
পুরো টুর্নামেন্টে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ছড়িয়েছেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৩০টি সফল ড্রিবল করে তিনি টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলারদের তালিকায় শীর্ষে থাকেন।
নকআউট পর্বেও নতুন রেকর্ড গড়েন ইয়ামাল। মাত্র ১৯ বছর ১ দিন বয়সে পেনাল্টি আদায় করে গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে ইংল্যান্ডের মাইকেল ওভেনের পর দ্বিতীয় কনিষ্ঠ টিনএজার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া টিনএজার ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও যুক্ত হয়েছে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসির নাম।
স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে ইয়ামালের পরিসংখ্যানও বিস্ময় জাগানিয়া। প্রতিযোগিতামূলক ২৮টি ম্যাচ খেলেও এখনো হার দেখেননি তিনি। আরও অবিশ্বাস্য তথ্য হলো, ইউরো ও বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে থাকা তার ১৩টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ইউরোপের কোনো ফুটবলারের ক্ষেত্রে বড় টুর্নামেন্টে এটি টানা শতভাগ জয়ের দীর্ঘতম রেকর্ড।
ইয়ামালের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টস বিশ্লেষক জো হার্ট। তিনি বলেন, ‘সে শুধু মাঠের চাপ সামলায়নি, বরং প্রতিপক্ষের আগ্রাসনের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯ বছর বয়সেই ও ফুটবলকে কমপ্লিট করে ফেলেছে।’