
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জন্মভূমি ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে। ফলে আর্লিং হালান্ডের জন্য ম্যাচটি শুধুই নকআউট লড়াই নয়, বরং আবেগেরও। ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড নিজেই ম্যাচটিকে ‘বিশেষ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মিয়ামিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হালান্ড বলেন, ‘এটি অবশ্যই খুব বিশেষ একটি ম্যাচ। আমি ইংল্যান্ডে খেলি, ইংল্যান্ডেই আমার জন্ম। সেখানে আমার অনেক সতীর্থও আছে। তাই ম্যাচটি ভিন্ন রকমের অনুভূতি দেবে। এটি উপভোগ্য হবে।’
আর্লিং হালান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডে, যখন তার বাবা আলফ-ইঙ্গে হালান্ড লিডস ইউনাইটেডের হয়ে খেলতেন। পরে ইংলিশ ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। গত চার মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ধারাবাহিক দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে চমক দেখাচ্ছে নরওয়ে, আর সেই অভিযানের সবচেয়ে বড় নায়ক হালান্ড। নিজের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেই চার ম্যাচে সাত গোল করে দলকে তুলেছেন শেষ আটে। শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জয়ের অন্যতম নায়কও ছিলেন তিনি।
তবে এত বড় সাফল্য যে আগে কল্পনাও করেননি, তা স্বীকার করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে আমি এমনটা আশা করিনি। নরওয়েকে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আমার কাছেও বিস্ময়কর। ব্রাজিলকে হারিয়ে এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামা আমাদের জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা।’
নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের কথাও তুলে ধরেন হালান্ড। তিনি বলেন, ‘নরওয়েতে মানুষ যেভাবে উদযাপন করছে, তা দেখলে বুঝবেন, এটি আমাদের জন্য একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা নয়। তাই সবকিছুই খুব বিশেষ মনে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও গত ৬০ বছরে কোনো বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি। সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হালান্ড বলেন, ‘ইংল্যান্ড অবশ্যই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তাই আমি বলব, যতটা সম্ভব চাপ ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের ওপরই দিন।’