
অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনে মিশরকে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে থাকে লিওনেল মেসির দল।
শেষ আটে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইসরা। তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়।
এ পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে সাতটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিতে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। অর্থাৎ সুইজারল্যান্ড এখনো আর্জেন্টিনাকে হারানোর স্বাদ পায়নি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসেও এগিয়ে রয়েছে আলবিসেলেস্তারা। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে প্রথম দেখায় তারা ২-০ গোলে জয় পায়। পরে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতেও অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে পরের পর্বে ওঠে আর্জেন্টিনা।
দুই দলের ড্র হওয়া দুটি ম্যাচই ছিল প্রীতি ম্যাচ। ১৯৯০ ও ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত সেই দুই লড়াই ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়েছিল। এছাড়া ১৯৮০ সালে ৫-০, ১৯৮৪ সালে ২-০ এবং ২০১২ সালে ৩-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
সাতটি মুখোমুখি ম্যাচে আর্জেন্টিনা করেছে মোট ১৫ গোল, বিপরীতে সুইজারল্যান্ডের গোলসংখ্যা মাত্র চার। তাই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পক্ষেই কথা বলছে।
তবে ফুটবলে অতীতের রেকর্ড সবসময় ভবিষ্যতের ফল নির্ধারণ করে না। চলতি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের দুই ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ইতিবাচক ইতিহাস আত্মবিশ্বাস জোগালেও কোয়ার্টার ফাইনালে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হবে মাঠের পারফরম্যান্সেই।