
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিলেও আয়োজক দেশগুলোর সামনে একাধিক শর্ত তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, শর্ত পূরণ না হলে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
রোববার (১১ মে) ইরান ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, তারা বিশ্বকাপে খেলতে চায়, তবে নিজেদের সাংস্কৃতিক ও আদর্শগত অবস্থান অক্ষুণ্ণ রেখেই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে চায়।
ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট মেহেদি তাজ জানিয়েছেন, আয়োজক দেশগুলোর কাছে মোট ১০টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের জন্য নির্বিঘ্ন ভিসা ব্যবস্থা, জাতীয় পতাকা ও সংগীতের প্রতি পূর্ণ সম্মান, এবং দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর থেকে হোটেল এবং খেলার ভেন্যু পর্যন্ত যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তবে এসব শর্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ আয়োজক দেশগুলো তা কতটা মানবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইরান দাবি করেছে, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে তাদের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাও এই অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানি খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে স্বাগত জানানো হবে, তবে কিছু নির্দিষ্ট নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভিসা জটিলতা থাকতে পারে।
এরই মধ্যে ভিসা সমস্যার কারণে কানাডায় অনুষ্ঠিত এক ফিফা সভায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
ইরান শঙ্কা প্রকাশ করেছে, একই ধরনের জটিলতা দলের অন্যান্য খেলোয়াড় ও স্টাফদের ক্ষেত্রেও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সামরিক সংশ্লিষ্টতা থাকা কিছু খেলোয়াড়ের ভিসা ইস্যু বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। আয়োজক দেশগুলো শর্ত মানবে কি না, তা নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।