
চট্টগ্রামে চাপের রান তাড়াকে সহজ জয়ের গল্পে পরিণত করল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের ১৮২ রানের লক্ষ্য ১৮ ওভারেই টপকে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় লিটন দাসের দল। শুরুটা কিছুটা দোলাচালে থাকলেও শেষটা লিখলেন একাই তাওহিদ হৃদয়, যিনি খেললেন ম্যাচ জেতানো এক নিয়ন্ত্রিত ইনিংস।
রান তাড়ায় ভালো শুরু এনে দেন সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। তবে ৭৭ রানে তিন উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচে চাপ তৈরি হয়। লিটন দাস ২১ রানে বোল্ড হন ইশ সোধির বলে, তানজিদও থামেন ২০ রানে। তখনই ম্যাচে ঢুকে পড়েন পারভেজ হোসেন ইমন ও হৃদয়।
মাত্র ২৩ বলে ৪৮ রানের ঝড়ো জুটিতে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন তারা। ইশ সোধির এক ওভারেই আসে ১৮ রান, যেখানে দুটি ছক্কা ও একটি চার ছিল। ইমন ২৮ রান করে ফিরলেও থামেননি হৃদয়।
শেষ পর্যন্ত ২৭ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। মেরেছেন ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল তার ব্যাটিং নিয়ন্ত্রণ, যেখানে তিনি খেলেছেন মাত্র ২টি ডট বল। বাকি রান এসেছে সিঙ্গেল, ডাবল ও বাউন্ডারির মাধ্যমে, যার মধ্যে ২৫ রান এসেছে দৌড়ে।
দুর্দান্ত এই ইনিংসের ফলাফল পেয়ে গেলেন হাতে-নাতে। দারুণ জয়ে দলের টি-২০ সিরিজ শুরু করার পাশাপাশি নিজেও পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।

এই পারফরম্যান্স আরও বিশেষ হয়ে ওঠে পরিসংখ্যানের সঙ্গে তুলনায়। আগের ম্যাচগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, শেষ পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে হৃদয়ের স্ট্রাইক রোটেশন তুলনামূলক ধীর ছিল এবং ডট বলের চাপ বেশি ছিল। কিন্তু এই ম্যাচে তিনি সেই প্রবণতা পুরোপুরি বদলে দেন।
এই ইনিংসে তার ব্যাটিং ছিল অনেক বেশি পরিস্থিতি অনুযায়ী সাজানো। শুরুতে আগ্রাসন, মাঝখানে স্ট্রাইক রোটেশন, আর শেষে ম্যাচ ফিনিশিংয়ে ঠান্ডা মাথার সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে নাথান স্মিথকে ছক্কা হাঁকানোর পরও তিনি আর অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নেননি। তখনও দলের দরকার ছিল প্রায় ৩০ রান, কিন্তু তিনি বুঝেশুনে সিঙ্গেল-ডাবলে ম্যাচ শেষের দিকে নিয়ে যান।
শেষদিকে শামিম পাটোয়ারির সঙ্গে জুটিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আর ঝুঁকি না নিয়ে ম্যাচ শেষ করার দিকেই মনোযোগ দেন। চাপের ম্যাচে এই অ্যাডাপ্টেশনই ছিল সবচেয়ে বড় পার্থক্য।
এর আগে নিউজিল্যান্ড তোলে ৬ উইকেটে ১৮২ রান, যেখানে ক্লার্ক ও ক্লেভার দুজনই করেন ৫১ রান করে। বাংলাদেশের হয়ে রিশাদ হোসেন নেন দুটি উইকেট।
সব মিলিয়ে এই ম্যাচে তাওহিদ হৃদয়ের ইনিংস কেবল রান নয়, ছিল ম্যাচ কন্ট্রোলের গল্প। ডট বল কমিয়ে, স্ট্রাইক রোটেশন বাড়িয়ে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন কেন তিনি এখন বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের একজন।