
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে রাতারাতি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নামে পোস্টার সাঁটানোকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন বলছে, ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি না থাকায় কারা এ পোস্টার লাগিয়েছে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোববার রাতে ক্যাম্পাসের কলা ঝুপড়ি, পুরাতন আইইআর ভবন, ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগ এবং ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়। পরে সকালেই বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, পুলিশ সূত্রে তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন। তবে কে বা কারা পোস্টার লাগিয়েছে কিংবা এর উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট স্থানে সিসিটিভি না থাকায় জড়িতদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে।’
কলা ঝুপড়ির এক দোকানি জানান, সকালে দোকান খুলে তিনি দেয়ালে একটি পোস্টার দেখতে পান এবং আরেকটি ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। পরে শিক্ষার্থীরাই আশপাশের পোস্টারগুলো খুলে ফেলে।
পোস্টারগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি ও স্লোগান লেখা ছিল, যার মধ্যে ছিল শেখ হাসিনাকে ঘিরে প্রশংসাসূচক বক্তব্য, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের দাবি, রাজবন্দিদের মুক্তি, পুলিশ হত্যার বিচার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিকে নিয়ে কঠোর সমালোচনামূলক মন্তব্য। পোস্টারের নিচে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নাম উল্লেখ ছিল বলেও জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের এক নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ সংগঠনটির কিছু তৎপরতা ক্যাম্পাসে আবারও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পোস্টারিংসহ নানা গোপন কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর নজরদারি দরকার।’
অন্যদিকে ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, কোনো সংগঠন নিষিদ্ধ হওয়ার পরও যদি তারা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তা প্রতিরোধে প্রশাসনের আরও শক্ত অবস্থান প্রয়োজন ছিল। তিনি মনে করেন, শুরু থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নিলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক নেতা অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও তারা এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তার দাবি, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে গোপনে থাকা সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সিসিটিভি না থাকা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির সীমাবদ্ধতার কারণে ঘটনাটি তদন্তে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।