
দক্ষিণ এশিয়ান যুব টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অনূর্ধ্ব উনিশ বালক বিভাগে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনা জিতে নেয় বাংলাদেশ, একই সঙ্গে নিশ্চিত করে আসন্ন এশিয়ান আসরে খেলার যোগ্যতা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) হিমাচল প্রদেশের শিমলায় দ্বিতীয় দিনের ম্যাচে শক্তিশালী শ্রীলঙ্কাকে ৩-১ সেটে হারিয়ে এই সাফল্য পায় বাংলাদেশ।
গ্রুপে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপাল সমান পাঁচ পয়েন্ট পেলেও সেট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে শীর্ষে উঠে আসে বাংলাদেশ। শুরুটা অবশ্য স্বস্তিদায়ক ছিল না। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার ভিয়ানদুয়া আকাইনের কাছে ২-৩ গেমে হেরে যান আবুল হাসেম হাসিব। কিন্তু এরপর যেন ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখতে শুরু করে দলটি।
নাফিজ ইকবাল ৩-০ ব্যবধানে দানুক লামাসুরিয়াকে হারিয়ে সমতা ফেরান। এরপর জয় ইসলাম একই ব্যবধানে মুনাসিংহা হারিনকে হারিয়ে এগিয়ে দেন বাংলাদেশকে। শেষ লড়াইয়ে অধিনায়ক নাসিফ ইকবাল ৩-১ গেমে ভিয়ানদুয়া আকাইনকে পরাজিত করে নিশ্চিত করেন সোনার জয়, যেন শেষ আঘাতে সোনালি মুকুট তুলে নেয় দল।
এই জয়ের ফলে আগামী ২১ থেকে ২৭ জুন ওমানের রাজধানী মাস্কাটে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান যুব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ফুট উচ্চতা আর ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুরুতে কিছুটা ধাক্কা খেলেও খেলোয়াড়রা দ্রুত মানিয়ে নিয়ে নিজেদের সেরাটা তুলে ধরতে সক্ষম হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অতীত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২২ সালে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত আসরে প্রথমবার সোনা জেতে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব উনিশ দল। এরপর ২০২৩ সালে ভারতের অরুণাচল ও ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে রৌপ্য জেতে তারা। গত বছর নেপালের কাঠমান্ডুতে ব্রোঞ্জে থামতে হলেও এবার আবার সোনার স্বাদ পেল দলটি।
অন্যদিকে, অনূর্ধ্ব পনেরো বালক দল নেপাল ও মালদ্বীপকে হারালেও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় এবং তাদের সামনে ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ বাকি রয়েছে। মেয়েদের অনূর্ধ্ব উনিশ দল তিন ম্যাচেই পরাজিত হয়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি, আর অনূর্ধ্ব পনেরো বালিকা দলও শুরুটা করেছে হারে। তাদের সামনে এখনও কিছু ম্যাচ বাকি থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
গত বছর যেখানে সাতটি ব্রোঞ্জে থেমে ছিল বাংলাদেশের প্রাপ্তি, সেখানে এবারের শুরুতেই সোনার ঝলক দেখিয়ে নতুন সম্ভাবনার আলো জ্বালায় অনূর্ধ্ব উনিশ ছেলেরা, যেন দক্ষিণ এশিয়ার মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দেয়।