
২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনালের ফল বাতিল করে মরক্কোকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার পর বিষয়টি গড়িয়েছে আন্তর্জাতিক আদালতে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছে সেনেগালিজ ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)। গত বুধবার তারা খেলাধুলার সর্বোচ্চ আদালত Court of Arbitration for Sport-এ আপিল করেছে।
সেনেগালের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন খ্যাতনামা আইনজীবী হুয়ান দে দিওস ক্রেসপো পেরেজ। এক সংবাদ সম্মেলনে কাফের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই সত্যিকারের খেলোয়াড়িসুলভ বিচার বলা যায় না। এটি অত্যন্ত স্থূল, অদ্ভুত ও অযৌক্তিক। এটি ফুটবলের আইন এবং ‘রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত’— এই সর্বজনীন নীতিকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।’
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি সিএএস সেনেগালের বিপক্ষে রায় দেয়, তবে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের বিজয়ীদের নাম মাঠের বদলে আইনজীবীদের ল ফার্মে নির্ধারিত হবে।’
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ জানুয়ারি মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে। ওই ম্যাচে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল সেনেগাল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে রেফারির পেনাল্টি দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সেনেগালের বেশির ভাগ খেলোয়াড় সাময়িকভাবে মাঠ ত্যাগ করেন। এই ‘ওয়াক-অফ’-এর ঘটনাকেই কেন্দ্র করে তাদের শিরোপা বাতিল করা হয়

পেনাল্টির সিদ্ধান্তের পর মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন সেনেগালের সমর্থকেরা।
সেনেগালিজ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আবদুলায়ে ফাল এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই প্রশাসনিক ডাকাতির মুখে আমরা দমে যাব না। আমরা এর বিরুদ্ধে নৈতিক ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবো।’
প্যারিসে অবস্থানরত সেনেগালের ছয় সদস্যের আইনি দলের অন্যতম সদস্য সার্জ ভিতোজ জানান, তারা দ্রুত বিচার শেষ করার জন্য সিএএসের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন। সাধারণত এ ধরনের মামলার নিষ্পত্তি হতে ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে।
ভিতোজ আরও দাবি করেন, কাফের আপিল বোর্ড সেনেগালের শিরোপা কেড়ে নেওয়ার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘ব্যাখ্যাহীন কোনো সিদ্ধান্ত বৈধ হতে পারে না। তাই সেনেগাল এখনো বর্তমান আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন।’