
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় দেশের তৈরি পোশাকশিল্প কঠিন সময় পার করছে। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ খাতের শ্রমিকদেরও দুর্ভোগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ আহ্বান জানান। পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
স্ট্যাটাসে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের ব্যর্থতা, জ্বালানির উচ্চমূল্য, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা এবং ক্রয়াদেশ বাতিল ও কমে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো এ খাতের সংকট আরও বাড়িয়েছে।
শিল্পের সংকটের পাশাপাশি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার কঠিন পরিস্থিতিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পোশাকশ্রমিকদের জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারকে দ্রুত টেকসই উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদনের গতি বাড়ানো গেলে অন্য সমস্যাগুলোও যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করে সমাধানের পথ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, শিল্প টিকে থাকলে শুধু মালিকপক্ষ নয়, পুরো দেশই উপকৃত হবে। তাই শিল্প উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি এ খাতে কর্মরত শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। তাই এ বিষয়ে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।