
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পাহাড়ে অস্থিরতা এবং ভারতের সঙ্গে সরকারের কথিত গোপন আঁতাত নিয়েও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ মিছিল সফল করার লক্ষ্যে রোববার রাজধানীর মিরপুরে পথসভা ও লিফলেট বিতরণ করে এনসিপি ঢাকা মহানগর উত্তর। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি অবৈধ সরকার। কারণ এই সরকার জনগণের ৭০ শতাংশ রায়ের অবমাননা করেছে। বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে, আমরাও মনে করি সেগুলো অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে এটা বলার সুযোগ নেই, কারণ বিএনপি সরকার সেই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি। এখনো সুযোগ রয়েছে—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে সেই অবৈধ সংসদের ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে নতুনভাবে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং নতুনভাবে গঠনের।’
সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ‘পুরোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচেয়ে ভালো সংশোধনীটাও আনে, ভবিষ্যতে এমন হতে পারে—সে সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার এবং অন্তর্বর্তী সময়টাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আমরা দেখেছি কীভাবে পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে আওয়ামী লীগ একজন অবৈধ ক্ষমতা দখলদার হিসেবে ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। ফলে এটি যে তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তারেক রহমানের ভালোর জন্যই আমরা বলছি, অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে পুরোনো সংসদ, পুরোনো অবৈধ সরকার এবং পুরোনো ফ্যাসিস্ট সংবিধানের সাংবিধানিক কাঠামোর ধারাবাহিকতা থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে নতুনভাবে গণতান্ত্রিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করুন।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এখন সমতল থেকে পাহাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। পাহাড় কেন অশান্ত—এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। আমরা দেখতে পাচ্ছি, সরকার পাহাড়কে শান্ত ও স্থিতিশীল রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। পাহাড়কে অস্থিতিশীল করতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কীভাবে তৎপরতা ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্টভাবে বলতে হবে। কারণ এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।’
পাহাড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সরকার ভারতের সাথে গোপন আঁতাত করছে। এই গোপন আঁতাতের ফলেই নানাভাবে পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা জানি পাহাড়ে কারা অস্ত্র দেয়, পাহাড়ে কারা অশান্তি তৈরি করে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ও কথিত বন্ধুরাষ্ট্র যখনই বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে, তখনই তারা পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করে।’
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলটির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদ, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সারোয়ার তুষার, সালেহ উদ্দিন সিফাত এবং সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুমসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা।