
বিগত ছয় মাসে বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ঘুণে ধরা প্রশাসন এবং সেকেলে রাজনৈতিক দলের দেশ নিয়ে কোনও ইনোভেটিভ প্ল্যান নাই, ক্ষমতার আগে তারা বলে ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। ক্ষমতায় গিয়ে বিরোধী দলকে আল্টিমেটাম দেয় ‘গিভ মি ইওর প্ল্যান’। এভাবেই চলছে।”
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “নির্বাচনের আগে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অথচ সরকারের প্রথম ছয় মাসেই নতুন কর্মসংস্থান তৈরি তো দূরের কথা, উল্টো ৯৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে ৬১,৮৮১ জন কর্মসংস্থান হারিয়েছে।”
তিনি আরও লেখেন, “একদিকে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছয় মাসে প্রায় ৬২ হাজার মানুষের চাকরি হারানো— এই বাস্তবতার মধ্যেই সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করতে হবে।”
হাসনাতের মতে, সরকার শ্রমবাজারের মাত্র ৪ থেকে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নিয়োগ দিতে পারে। বাকি কর্মসংস্থান তৈরি করে বেসরকারি খাত ও প্রবাসী শ্রমবাজার। তাই সরকারের কাজ সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি করা নয়, বরং বেসরকারি খাতকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উপযোগী পরিবেশ ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া।
তিনি লেখেন, “সরকার হবে এমপ্লয়মেন্টের ফেসিলিটেটর, এনাবলার। সে পলিসি ইন্টারভেনশন করবে, ফাইনান্স ফ্রেমওয়ার্ক সাজাবে, ইনফ্রা সাপোর্ট দেবে। কর্মসংস্থান এগিয়ে নিবে বেসরকারি খাত।”
পোস্টে তিনি অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক—দুই ভাগে বিভক্ত করে আনুষ্ঠানিক খাতের দক্ষতা চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাইপলাইন তৈরির ওপর জোর দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “অর্থাৎ সরকারকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ যাবতীয় ট্রেনিং একাডেমি ও ইন্সটিটিউটকে নিজেদের অকার্যকর কোর্সের খোলস থেকে বাস্তবের শ্রমবাজারে নামিয়ে আনতে হবে।”
তার দাবি, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলো শিক্ষা ও শ্রমবাজারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে এবং দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা প্রকৃতপক্ষে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারের পরিবর্তে বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণ প্রবাহিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষক, জেলে ও খামারিদের অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ, সরবরাহব্যবস্থা ও ই-কমার্স অবকাঠামো তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি।
কৃষিতে তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন হাসনাত। তাঁর মতে, কৃষক, জমি ও উৎপাদনের তথ্যের সমন্বিত ডেটাবেজ না থাকায় সার, বীজ, ভর্তুকি ও বাজার ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতি গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রবাসী কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টিও তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ অবকাঠামো না থাকায় অনেকেই উচ্চ ঋণ নিয়ে বিদেশে গেলেও পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবে প্রত্যাশিত আয় করতে পারেন না।
এদিকে ভাতা ও কার্ডনির্ভর জনতুষ্টির রাজনীতিরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি সরকারের প্রতি উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ এবং কর্মসংস্থান তৈরির নীতিতে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
সবশেষে সরকারের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, “সবশেষে সরকারকে বলবো— পপুলিস্ট কাজকারবার বন্ধ করুন। এসব না করে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য ফরমাল ও ইনফরমাল ইকোনমির ফেসিলিটেটিং পলিসি, শহর ও গ্রামে দক্ষতা তৈরির পাইপলাইন তৈরি, এক্সেস টু ফাইনান্স, টুলস টু ওয়ার্ক ইত্যাদি বাস্তব কাজে ফিরে যান।”