
তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। এ উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমন্বয়ে বিশেষ সাংগঠনিক টিম গঠন করে সারাদেশে কমিটি পুনর্গঠনের কাজ পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।
বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনের একটি হোটেলে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মোনায়েম মুন্না বলেন, ‘যুবসমাজকে সংগঠনের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে রক্তদান, ত্রাণ ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। একই সঙ্গে যুবদল-সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশে তথ্য যাচাইয়ের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘অতীতের মধ্যে অস্বীকার করার রাজনীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসছি। কারা অপরাধে জড়িত তাদের খুজে বের করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।’
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংগঠনটির ৭৮ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন এবং শত শত নেতাকর্মী আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সেই ক্ষত এখনো অনেকেই বহন করছেন।
তিনি জানান, যুবদল সুশৃঙ্খল ও আদর্শভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী। বেআইনি, অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
যুবদল সভাপতি বলেন, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংগঠনের সুনাম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৭৮টি পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা প্রদান, নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের জন্য এফডিআর ও নগদ সহায়তা, নদী-খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সেতু ও ব্রিজ নির্মাণ, কৃষকদের ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেওয়া, অসহায় ও অসুস্থ নেতাকর্মীদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা এবং গৃহহীন পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণসহ নানা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদল শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই নয়, সামাজিক দায়িত্ব পালন ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
আব্দুল মোনায়েম মুন্না জানান, গত ৪ জুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এ সময় কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক জরুরি সভা, ঢাকা বিভাগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি পালন করা হয়।
তিনি বলেন, অপপ্রচার ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বিরুদ্ধে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ‘সাংগঠনিক সপ্তাহ’ ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি অংশ নেন।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশের ১০ বিভাগে ৩১টি সাংগঠনিক টিম গঠন করা হয়। পরে বিভাগীয় টিমগুলোর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে ৫ ও ৬ জুলাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সিনিয়র সহসভাপতি রেজাউল করিম পল, যুগ্ম সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জুয়েলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।