
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঁচ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছে জোটটি। পরে সংসদ ভবনের সামনে মানববন্ধন থেকে প্রয়োজনে ‘আরেকটি জুলাই বিপ্লব’-এরও হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের পক্ষে স্মারকলিপি দেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। স্পিকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
মানববন্ধনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে সংসদ পরিচালনা করা যাবে না। জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য বাস্তবায়নে আবারও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণই সরকারকে বাধ্য করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির জারি করা আদেশ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোটার সংবিধান সংস্কারের পক্ষে মত দেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার বিধান থাকলেও বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় পদেই শপথ গ্রহণ করেন।
স্পিকারকে দেওয়া স্মারকলিপিতে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের স্বাক্ষর রয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেলিম উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।