
বরিশাল নগরে একটি রেস্তোরাঁয় হামলা, ভাঙচুর এবং দুই নারী ব্যবসায়ীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ঝাড়ু মিছিল এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে নগরের নতুন বাজার এলাকার মড়কখোলা পুলে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। দ্রুত জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
ঝাড়ু মিছিল শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে কিছু সময়ের জন্য নতুন বাজার সড়ক অবরোধ করা হয়। এতে যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ ও মহানগর ছাত্রদলের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে নতুন বাজারের মড়কখোলা পুল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় ক্যাশবাক্স থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং রেনু বেগম ও মালা আক্তার নামে দুই নারী ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয়। ওই হামলার নেতৃত্বে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সোমবার দুপুরে আমাদের কর্মী আব্দুল্লাহকে মড়কখোলা পুল এলাকায় একদল সন্ত্রাসী মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়। সন্ধ্যায় ওই ঘটনার অভিযোগ দিতে যাওয়ার সময় একই স্থানে আমাদের আরেক শিক্ষার্থীর ওপরও হামলা হয়।’ তার দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদলের কেউ ওই রেস্তোরাঁয় হামলা চালায়নি। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম বলেন, ‘ছাত্রদল কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। যদি ছাত্রদলের নাম ব্যবহার করে কেউ নারীর ওপর হামলা বা শ্লীলতাহানির ঘটনায় জড়িত থাকেন, তাহলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’