
মুন্সীগঞ্জে এক দলীয় সম্মেলনে স্বাধীনতার ঘোষণার ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আওয়ামী লীগের কোনো শীর্ষ নেতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারেননি এবং পরবর্তীতে সামরিক ব্যক্তির মাধ্যমেই সেই ঘোষণা দেওয়া হয়।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের কাচারিতে অবস্থিত একটি পার্টি সেন্টারে জেলা জামায়াত আয়োজিত বার্ষিক সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক সিনিয়র নেতা ও রাজনীতিবিদ ছিলেন, কিন্তু একটা মানুষও স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে পারলেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়নি এটাই বাস্তবতা। শেষ পর্যন্ত পরের দিন একজন সামরিক মেজর তাকে নিয়ে আসা হয় স্বাধীন ঘোষণা দেয়ার জন্য আর তিনি হলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলো এটা তাদের মন মতো হলো না। তখন আবার দ্বিতীয় বার ঘোষণা দেয়া হলো সেটাও একজন সামরিক মেজর দিয়েছিলেন। তখন আওয়ামী লীগের একজন সিনিয়র নেতাকেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমি মুক্তিযুদ্ধের প্রক্লেমেশন ঘোষণা করছি এটা বলার মতোও কেউ ছিলো না।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসকে জবাই করলেও মুছা যায় না। ইতিহাস কোন না কোনভাবে আবার ফিরে আসে। যার যেখানে যে অবদান সেটাকে আমরা স্বীকার করার পক্ষে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার শুরুতে পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বসহ বিভিন্ন ভূমিকা যথাযথভাবে স্বীকৃতি পায় না।
গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান না হলে ২০২৬ সালে নির্বাচনও হতো না। সেই ফ্যাসিবাদই আজ ক্ষমতায় থাকতো।’ তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে গুম-খুন ও লুটপাটের রাজত্ব চলেছে এবং জনগণের ইচ্ছার ভিত্তিতে ক্ষমতা পরিবর্তন হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন ছিল, যা বর্তমান সরকার অস্বীকার করেছে। গণভোট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ গণভোটে রায় দিলো। সেটাই এখন সরকার অস্বীকার করছে।’
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘দ্বিতীয় গণভোট হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাতে, তৃতীয় গণভোট হয়েছে বেগম জিয়ার হাতে। কিন্তু চতুর্থ গণভোট জনগণের হাতে, এইটা আপনারা মেনে নেবেন না।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা ছেড়ে দেবো না। আমরা গণভোটের জন্য শেষ লড়াই চালিয়ে যাবো। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা সেই দাবি আদায় করবো। জনগণের রায় বিফলে যাবে না।’
সংবাদমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরতে হবে এবং মিথ্যার সঙ্গে আপস করা যাবে না। পাশাপাশি তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আপনাদের স্বপ্নের কথা বলছি, প্রত্যাশার কথা বলছি… আমরা একসঙ্গে লড়াই করতে চাই, এই সমাজকে মুক্ত করতে চাই, একটি মানবিক বাংলাদেশ করতে চাই, একটি ন্যায় বাংলাদেশ করতে চাই।’
সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমির আ.জ.ম রুহুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের পরিচালক সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, জেলা সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন রাজি, মজলিশে সূরা সদস্য অধ্যাপক ফজলুল করিমসহ স্থানীয় নেতারা।