
বিগত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে বহুল আলোচিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ সম্বোধনটি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে কখনোই ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেননি বলে দাবি করেছেন তিনি। মাহফুজ আলমের মতে, ‘মাস্টারমাইন্ড’ শব্দটি মূলত নেতিবাচক ও বিতর্কিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, অথচ ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাকে পরিচয় করাতে গিয়ে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ শব্দগুচ্ছ বেছে নিয়েছিলেন।
সম্প্রতি একটি অনলাইন টকশোতে যুক্ত হয়ে এই শব্দের ভুল ব্যাখ্যা এবং রাজনৈতিক অপপ্রচারের বিষয়ে মুখ খোলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা।
ড. ইউনূসের সেই বক্তব্য স্মরণ করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাকে নিয়ে দুটি কথা বলেছিলেন, কিন্তু কোথাও “মাস্টারমাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেননি। মাস্টারমাইন্ড একটি বাজে শব্দ। আপনি বলবেন “হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড”? মাস্টারমাইন্ড সবসময়ই নেতিবাচক অর্থ বহন করে।’
তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ড. ইউনূস কিংবা সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম—কারো বক্তব্যেই এই শব্দটির অস্তিত্ব ছিল না।
তার ভাষায়, ‘স্যার খুবই স্পষ্টভাবে “ব্রেইনস বিহাইন্ড” শব্দটি ব্যবহার করেছেন। পশ্চিমা রাজনৈতিক আলোচনা বা বিতর্কে এ ধরনের শব্দগুচ্ছ স্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হয়।’
বিষয়টিকে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এর সাথে যুক্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ফ্রেম করা হয়েছে।’
চব্বিশের ঐতিহাসিক আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টার জবাবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে মাহফুজ আলম বলেন, ‘আমরা কি কখনো বলি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান একটি ষড়যন্ত্র ছিল? এ কথা আইয়ুব খান বলেছেন, ইয়াহিয়ার শাসনামল বলেছে, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বলেছে। আজকে একই ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।’
নিউইয়র্কের সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চের ঘটনা
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন চলাকালীন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের বিশেষ আয়োজন ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডারস স্টেজ’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
নিউইয়র্কের সেই জমকালো অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সুহৃদ বিল ক্লিনটনের সাথে আলাপচারিতার একপর্যায়ে নিজের সফরসঙ্গী তরুণ প্রতিনিধিদের বিশ্বমঞ্চের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন নোবেলজয়ী এই অধ্যাপক। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ঘটে যাওয়া অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারিগর ও চিন্তক হিসেবে মাহফুজ আলমকে ‘ব্রেইনস বিহাইন্ড’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।