
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার দুই দিন পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। পদত্যাগকে ঘিরে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়া নানা আলোচনা ও রাজনৈতিক জল্পনার মধ্যে তিনি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং বিএনপির প্রতি নিজের অটুট আনুগত্যের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (৩ জুন) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ বার্তায় দীপেন দেওয়ান বলেন, তার পদত্যাগকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে কোনো ধরনের গুজব, উসকানি বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম সবার। এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সহাবস্থান রক্ষা করার দায়িত্বও সবার ওপর বর্তায়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখা প্রয়োজন।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে দীপেন দেওয়ান বলেন, তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি উল্লেখ করেন, তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন এবং সেই আদর্শ থেকেই তিনি রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির একজন কর্মী হিসেবেই থাকতে চান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতিও পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের কাজে তিনি ভূমিকা রাখতে চান। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক, সেটিই তার প্রত্যাশা।
সোমবার (১ জুন) শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান দীপেন দেওয়ান। এরপর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দলীয় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছেন, দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও বিএনপির সঙ্গে তার সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারে কোনো পরিবর্তন আসেনি।