
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এর অংশ হিসেবে প্রথম দফায় দেশের ১০০টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদের জন্য দলীয় প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে দলটি।
রোববার (১০ মে) এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
প্রার্থী তালিকায় বৈচিত্র্য ও বিশেষত্ব
এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা এবং রাজনীতির বাইরে থাকা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ বা বিএনপি থেকে আসা নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন:
‘তালিকায় এমন ব্যক্তিরা রয়েছেন যারা আগে বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেক প্রার্থী আছেন যারা আগে কখনো সক্রিয় রাজনীতি করেননি। ৫-৭ বছর আগে আওয়ামী লীগ করতেন কিন্তু পরবর্তীতে দলটির 'স্বৈরাচারী' আচরণের কারণে জুলাই আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, এমন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’
জোট বনাম একক নির্বাচন
জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের সাথে একসঙ্গে নির্বাচনের সম্ভাবনা নিয়ে সারজিস আলম জানান, এনসিপি আপাতত এককভাবেই ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব উপজেলায় জোটগতভাবে একক প্রার্থী দেওয়া প্রযুক্তিগতভাবে বেশ জটিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে ভবিষ্যতের জন্য আলোচনার পথ খোলা রেখে তিনি জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী জোটবদ্ধ হওয়ার প্রয়োজন পড়লে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তফসিলের দাবি ও নির্বাচনী লক্ষ্য
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি প্রকাশের দাবি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও রূপরেখা জানা থাকলে প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে সুবিধা হবে।
এনসিপি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এটি কেবল তাদের প্রাথমিক তালিকা। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বাকি সব উপজেলা ও পৌরসভার জন্যও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবে দলটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের অনেক আগেই ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণার মাধ্যমে এনসিপি মূলত তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির মহড়া দিচ্ছে।