
দুদক কর্মকর্তা সেজে ভয় দেখিয়ে ঘুষ আদায়ের চেষ্টা এবার আর সফল হলো না। গাইবান্ধা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মো. জাফরুল্লাহ (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১০ মে) দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই আটকের ঘটনা ঘটে।
যেভাবে চলল প্রতারণার নাটক
পুলিশ ও অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের বড়গাঁ এলাকার অছিম উদ্দিনের ছেলে জাফরুল্লাহ গাইবান্ধা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি নিজেকে দুদকের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দাবি করেন এবং কৌশিক নামে এক অডিটরের খোঁজ করেন।
কথিত এই কর্মকর্তা কৌশিককে অফিসের আড়ালে ডেকে নিয়ে জানান যে, তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এরপর জাফরুল্লাহ নিজের মোবাইল ফোনে অন্য একজনকে ‘দুদক কর্মকর্তা’ পরিচয় দিয়ে কৌশিকের সাথে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের ওই ব্যক্তি কৌশিককে হুমকি দিয়ে জানান যে, সব ঝামেলা থেকে বাঁচতে হলে যেন জাফরুল্লাহর সাথে রফাদফা করা হয়।
সন্দেহ ও পাকড়াও
জাফরুল্লাহর আচরণ ও কথাবার্তায় সন্দেহ জাগলে অডিটর কৌশিক অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে তাঁকে অফিসের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে অন্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে জাফরুল্লাহ অসংলগ্ন ও এলোমেলো তথ্য দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর প্রতারণা ফাঁস হয়ে গেলে অফিসের কর্মচারীরা তাঁকে আটকে রেখে গাইবান্ধা সদর থানায় সংবাদ দেন।
আইনি পদক্ষেপ
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সদর থানা পুলিশ। গাইবান্ধা জেলা অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স কর্মকর্তা খন্দকার মাহাতাব আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলমান।"
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, জাফরুল্লাহ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য হয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। তাঁর সাথে ফোনে যুক্ত থাকা অন্য সহযোগীদেরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।