
সংবিধান সংশোধন ও ইতিহাস পুনর্লিখন নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র আলোচনার মধ্যে ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান কখনো নতুনভাবে তৈরি হয় না, এটি সংশোধন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তার মতে, বর্তমান সংবিধানে কিছু অংশে ভুল ব্যাখ্যা ও তথ্য সংযোজন করা হয়েছে, যা সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো তিনি ‘আইনি অসঙ্গতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, এসব বিষয়ে হাইকোর্টের কিছু পর্যবেক্ষণ ইতিমধ্যে এসেছে এবং বাকি বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের কিছু তফসিলে স্বাধীনতা ও ইতিহাস সংক্রান্ত যে বর্ণনা রয়েছে, তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধান থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পরবর্তীতে ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে নিজেকে প্রোভিশনাল হেড অব স্টেট হিসেবে ঘোষণা করেন। তার মতে, এই ইতিহাস সংবিধানে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের মালিকানা জনগণের এবং সেই ক্ষমতা সংসদের মাধ্যমেই প্রয়োগ হয়। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব থাকবে।
সংসদে দেওয়া এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।