
সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার প্রবণতা যেন বিরোধী দলের রাজনৈতিক আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, আলোচনার টেবিলের চেয়ে কক্ষ ত্যাগেই যেন তাদের প্রতিবাদের ভাষা বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল ২০২৬’সহ একাধিক বিল কণ্ঠভোটে পাস হওয়ার পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাজধানীর সংসদ ভবনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধী দলের সদস্যরা একে একে কক্ষ ত্যাগ করেন।
অধিবেশনে দিনভর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত বিল, পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও পৌরসভা সংক্রান্ত একাধিক সংশোধনী বিল উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল জোরালো আপত্তি তোলে। তবে কণ্ঠভোটে সবগুলো বিলই পাস হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে যেসব বিল পাস করা হয়েছে, তার দায় তারা নিতে চান না এবং এই অবস্থান থেকে তারা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছেন। তার ঘোষণার পরপরই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন, যেন ঢেউয়ের মতো একসঙ্গে বেরিয়ে যায় পুরো বিরোধী শিবির।
ওয়াকআউটের পর সংসদে প্রতিক্রিয়া জানাতে উঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ ছিল, কোথাও তারা সমর্থনও দিয়েছেন। এমন অবস্থায় সব প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে শেষ মুহূর্তে ওয়াকআউটের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, বিরতির পর তারা আবার অধিবেশনে ফিরবেন।
এ ঘটনার আগে ও চলমান অধিবেশনের ধারাবাহিকতায় আরও কয়েক দফা ওয়াকআউটের নজির রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর দিন ১২ মার্চ এবং দ্বিতীয় দফায় ১ এপ্রিলও বিরোধী দল একইভাবে ওয়াকআউট করে। সর্বশেষ ৯ এপ্রিলের অধিবেশনেও ‘স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধনী বিল ২০২৬’ পাসের পর বিরোধী দল ওয়াকআউট করে এবং পরে আবার অধিবেশনে ফিরে আসে।
একই ধারাবাহিকতায় একাধিক বিল পাস, তীব্র বাক্যবিনিময় আর বারবার ওয়াকআউটে সংসদ কার্যত উত্তপ্ত রাজনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে আইন প্রণয়নের প্রতিটি ধাপই হয়ে ওঠে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী পক্ষের শক্তির মুখোমুখি অবস্থানের প্রতিচ্ছবি।