
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধন বিল উত্থাপন করার সময় ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’র সংজ্ঞা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “আল্লাহ ভালো জানেন ৭১ সালের এই চরম সময়ে কার কি ভূমিকা ছিল।”
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন। এ সময় শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।
শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ের শাসকরা মুক্তিযুদ্ধের নৈতিক ও আইনগত ধারার প্রতি পূর্ণ দৃষ্টি দেননি। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বহুবারের সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সঠিক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছিল। তার মতে, বর্তমান বিলের প্রস্তাবিত সংজ্ঞা স্বাধীনতার পরে আনা হয়নি। তিনি আল্লাহকে একমাত্র নিখুঁত সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন, যে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সত্য ও ন্যায়ের পথে ছিল।
বিরোধী নেতার ভাষায়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে যারা দেশ ও জাতির জন্য বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করুন। শফিকুর রহমান দেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকেও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের শাসকরা বহুদলীয় গণতন্ত্রকে কিছু সময়ের জন্য হত্যা করেছে এবং একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হেয় করেছে।
শফিকুর রহমান স্মরণ করান, ১৯৭৩ সালের সংসদে তখনকার শাসকরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সংসদ সেই ধারাবাহিকতার অংশ এবং দেশের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে সুস্থ ধারায় পরিচালনা করা উচিত।