
বাংলাদেশ ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা দেশে সরকার সমর্থিত ‘মব কালচার’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনার ইঙ্গিত বহন করছে।
বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকার সমর্থিত মব-কালচারের আনুষ্ঠানিক সূচনা বলে মনে হচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক ও পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও তাঁর উপদেষ্টার মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রকাশ্যে হেনস্তা করার অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, “এমনিতেই ফ্যাসিবাদের নাগপাশে পড়ে দেশের অর্থনীতিতে চরম দুরবস্থা, সর্বস্তরে দুর্নীতির মহামারি, সঙ্গে রয়েছে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট; তার পাশাপাশি যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে দেশের অর্থনীতির অবশিষ্টাংশও ধ্বংস হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, এই বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সমাজের সকল স্তর থেকে প্রতিবাদ হওয়া উচিত। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব সৃষ্টি করে দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা দক্ষ, দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন নানা উৎপাতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।”
সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমি সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, সত্যিকারভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হলে এসব অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”
একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশপ্রেমিক ও উপযুক্ত ব্যক্তিদের পদায়ন নিশ্চিত করতে হবে।