
তিন বছর মেয়াদি নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২০২৬ থেকে ২০২৮ কার্যকালের জন্য ঘোষিত এই কমিটি দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠকে অনুমোদিত ও শপথগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নতুন কমিটিতে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে আবারও দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।
দলীয় কাঠামোকে আরও কার্যকর করতে ঢাকাসহ সারাদেশকে ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত এই কমিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালে।
শুক্রবার আয়োজিত ভার্চুয়াল বৈঠকে আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে দায়িত্বশীলদের নির্বাচন করেন এবং তাদের শপথ পড়ান। নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সরাসরি উপস্থিত থেকে বৈঠকে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমান আমির নির্বাচিত হওয়ার প্রায় তিন মাস পর দলটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করল।
চার নায়েবে আমির
নতুন কমিটির নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম।
সাত সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে রয়েছেন— মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ
নির্বাহী পরিষদের ২১ সদস্য হলেন— এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি), মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন (এমপি), অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ (এমপি), অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল (এমপি), মোহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (এমপি) ও ড. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম।
নারী প্রতিনিধিত্ব
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য রয়েছেন। পাশাপাশি ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় নারী সদস্য রয়েছেন ১৭ জন। দলটি নারী অংশগ্রহণ বৃদ্ধিকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন
পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম। কমিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।
১৪ অঞ্চলে পুনর্বিন্যাস
সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে অঞ্চল পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—
রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে ড. হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে মাওলানা এটিএম মাছুম এবং চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন এই কেন্দ্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জামায়াত। ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই কমিটির অধীনে মাঠপর্যায়ে পুনর্গঠন, কর্মসূচির সমন্বয় এবং রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।