
নির্বাচনী মাঠে জনসমর্থনের ঢেউ বিএনপির দিকেই—এমন দাবি করে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য ভোট হলে বিএনপির বিজয় ঠেকানো যাবে না।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, উৎসবমুখর এই নির্বাচনী সময়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংস্থা ও জরিপের ফল, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা—সব মিলিয়ে স্পষ্ট যে জনসমর্থনের শীর্ষে রয়েছে বিএনপি। তিনি দাবি করেন, এই বাস্তবতা আঁচ করেই একটি নির্দিষ্ট দল পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে, সহিংস রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতির লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, জনরায়ের মুখে দাঁড়িয়ে এ ধরনের কৌশল রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, যারা সারাক্ষণ সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলেন, তারাই যদি ভোটের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি চরম লজ্জাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৫ আসনে ওই দলের শীর্ষ আইনজীবী নেতা প্রকাশ্যে দাড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইতে টাকা দেওয়ার ভিডিও ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে যে দলটি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারাই সেই প্রচারণার অংশ হিসেবে মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছে, যা নির্বাচনি আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। তিনি বলেন, দলীয় প্রধানের নিজ আসনেই যদি টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপচেষ্টা চলে, তাহলে দেশব্যাপী কী হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তিনি জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রকাশ বলে আখ্যা দেন।
তিনি আরও দাবি করেন, খুলনা-১ আসনে ওই দলের প্রার্থী ভোটারদের হাতে হাতে টাকা দিচ্ছেন—এমন খবর গণমাধ্যমে এসেছে। একইভাবে নিশ্চিত পরাজয়ের আশঙ্কা থেকেই দেশজুড়ে ভোট কেনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার আইডি, বিকাশ, নগদ ও রকেট নম্বর সংগ্রহের ঘটনাও এরই অংশ।
সহিংসতার অভিযোগ তুলে মাহদী আমিন বলেন, কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে ওই দলের শীর্ষ নেতার এলাকায় রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার ৪ নম্বর থালতামাঝ গ্রামে গতকাল রাতে ওই দলের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা চালায়, এতে অনেকেই গুরুতর আহত হন এবং বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দ্রুত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির অবশ্যম্ভাবী বিজয় ঠেকাতে যত অপপ্রচার, ষড়যন্ত্র, অর্থনৈতিক লেনদেন কিংবা সহিংসতাই করা হোক না কেন, গণতন্ত্রকামী জনগণ তা প্রতিহত করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।