
নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য ১০ টাকা কেজি চালের মতো বিভিন্ন ধরনের কার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এই অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মানুষের ভোট কেনার কোনো চিন্তা জামায়াতে ইসলামী করে না। জনগণের জীবনের প্রতি সম্মান দেখিয়েই রাজনীতি করার কথা জানাই।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা নিজেই ভোট প্রভাবিত করার সঙ্গে যুক্ত, তারা এখন সেই দায় অন্যদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “১০ টাকা কেজি চালের মতো নানা ধরনের কার্ডের লোভ দেখানো হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও তাৎক্ষণিকভাবে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হচ্ছে।”
জামায়াত আমিরের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার গঠন করলে মিথ্যা আশ্বাস নয়, বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের ভোট ও সমর্থনের সুযোগ পেলে দেশের সম্পদ ব্যবহার করে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে।
পোস্টাল ব্যালট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান জানান, ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলেও এখনো সব স্থানে তা পৌঁছায়নি। সময় কম থাকার কারণে নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালট ফিরে না এলে এটি দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।
প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের বঞ্চনার প্রতিকার করার একটি শক্তিশালী সুযোগ এসেছে। তিনি আহ্বান জানান, যে দল বা প্রার্থীকে পছন্দ করেন, নিঃসংকোচে তাকে ভোট দিন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ভোট দেওয়া শুধু অধিকার নয়, একাধিক ক্ষেত্রে এটি দায়িত্বও বটে।
গণভোট বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের জন্য তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলবেন। তিনি জানান, এককভাবে নয়, দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জাতিকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “সবাইকে নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য আমাদের।”