
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে অনাস্থা জানিয়েছেন বিএনপির সাবেক নেতা এবং ব্রাহ্মবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘(অনুসন্ধান কমিটি) আমি লিখিত জবাব দিয়েছি। আর আজকে আমি ইসিতেও একটা জবাব নিয়ে এসেছি। আমার প্রচার মাঠে থাকার কথা, কিন্তু বাধ্য হয়েই আমি আজকে ঢাকায় এসেছি। কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে প্রশাসন এবং পুলিশের যতটা নিরপেক্ষ থাকবার কথা, ততটা নিরপেক্ষ নয়।’
নিজের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কর্মীদের বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে। তাদেরকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মাথা ফাটানো হয়েছে, বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয় নাই। তাই, আমি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে এসেছি, যে যেহেতু আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আমি বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে আমাকে লড়াই করতে হচ্ছে।’
দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে। এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু বকর সরকার অভিযোগ উল্লেখ করে একটি চিঠি দেন।
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় তাকে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি হাজির হয়ে লিখিত জবাব দেন।
ভোটে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রশাসন যদি এখানে একদম “স্ট্রেইট” নিরপেক্ষ না থাকে তাহলে আরেকটা ৫ আগস্টের মতো কিংবা ২০১৮ সালের নির্বাচনের মতন আরেকটা নির্বাচন যদি হয়, বাংলাদেশে তার পরিণতি ভালো হবে না। কারো জন্যই ভালো হবে না। তাই, এই বিষয়গুলো আমি আসলে কমিশনকে অবহিত করেছি।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পর্যবেক্ষক দলের কাছেও অভিযোগ জানাবেন বলে জানান রুমিন ফারহানা।
তিনি বলেন, ‘আজকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবজার্ভারদের সাথে আমার বৈঠক আছে। আমি তাদেরকেও বিষয়গুলো অবগত করবো এবং আমি খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, অন্তত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কারচুপির খেলা কোনো রাজনৈতিক দল যেন করবার স্পর্ধা না দেখায়। আমি সকল দলকেই আহ্বান জানাবো।’
নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে মানুষের দীর্ঘ লড়াইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যে যেই দলেই ছিলাম, আমরা আমাদের অবস্থান থেকে লড়াই করেছি। সুতরাং, আরেকটা কারচুপির নির্বাচন আরেকটা ‘ম্যানিপুলেটেড ইলেকশন’ বাংলাদেশে আমরা হতে দেব না ইনশাল্লাহ।’