
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলটির সাতজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আবেদন পাওয়ার পর ভোটগ্রহণ পর্যন্ত এসব নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়টিতে পৃথক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে দলের সাতজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।
ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয়।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তা পাচ্ছেন—বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান; নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের (সাবেক সংসদ সদস্য); নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম; সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার; নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান; সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ (সাবেক সংসদ সদস্য) এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
ইসির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নেতাদের চলাচল ও প্রচারণার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্দেশনা কার্যকর করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘জামায়াতের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি ফরোয়ার্ড করে দিতে বলেছি।’
ইসি সূত্র জানায়, গত ১০ জানুয়ারি জামায়াতের পক্ষ থেকে সাত নেতার নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করা হয়। পরদিনই তাতে সম্মতি দিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়।