
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি ও বিচারিক কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি নির্বাচন আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ নোটিশ দেয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ এলাকায় রুমিন ফারহানা আচরণবিধি ভেঙে মঞ্চ নির্মাণ করে জনসভা করেন। এ সময় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গেলে রুমিন ফারহানা ও তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে ‘মব’ তৈরি করে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। এ ঘটনার পর গত রোববার সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সিভিল জজের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুর ২টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে (ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা আদালতের সিভিল শাখা) লিখিত ব্যাখ্যা জমা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশটি দ্রুত পৌঁছে দিতে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়। থানার ওসি মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কারণ দর্শানোর নোটিশ রুমিন ফারহানার কাছে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রুমিন ফারহানাকে নিয়ে কুৎসা রটনা, অশালীন ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে আশুগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলমগীর খাঁকেও একই কমিটি শোকজ নোটিশ দিয়েছে। পাশাপাশি রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানকেও ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আলমগীর খাঁকে বুধবার এবং হাবিবুর রহমানকে বৃহস্পতিবার লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল।
সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ম্যাজিস্ট্রেটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দেখানো বৃদ্ধাঙ্গুলির কথা বলতে গিয়ে আমি এ রকম দেখায় বলেছি। আমার এক অপরাধের বিরুদ্ধে (যদি হয়ে থাকে) তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আমি এমন প্রশাসনের অধীনে কিভাবে নির্বাচন করি, যারা অলরেডি বায়াসড।’