
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর দিতে চায় বিএনপি। স্থানীয় নেতারা আলোচনা করে উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারণ করবেন বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। তাঁর ভাষ্য, যাঁর জয়ের সম্ভাবনা বেশি, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। ভোটগ্রহণ ও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ঘোষণা হলে সেই সময়সূচি অনুযায়ী দলীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এ সময় চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পেছনে দেশি-বিদেশি ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, দেশের পরাজিত শক্তি প্রতিবেশী দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের উসকানি দিচ্ছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দেশে গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে।
রিজভীর অভিযোগ, শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে পরাজিত শক্তি। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে পোস্ট দিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, একটি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আট মাসের মধ্যে আবার বিপ্লবের কথা কেন বলা হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, যেসব বিষয়ে সংসদে আলোচনা করে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব, সেগুলো নিয়ে সংসদে কথা না বলে লংমার্চের মাধ্যমে দেশের মানুষকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর ধরে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করেছে। এ আন্দোলনে দলের নেতাকর্মীরা রক্ত দিয়েছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যদিকে জামায়াতের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মধ্যে মিশে গোপনে কর্মকাণ্ড চালিয়েছেন। এ কারণে তাঁদের গুপ্ত সংগঠন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল মালিক চৌধুরীসহ অনেকে।