
নগর অবকাঠামো, রেল, নৌপরিবহন, সড়ক, সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রামীণ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের ১৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেকের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এটি পঞ্চম একনেক সভা এবং বর্তমান সরকারের দশম সভা। নতুন প্রকল্পের পাশাপাশি কয়েকটি চলমান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।
সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রকল্প উঠছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ ৯০ হাজার এবং সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।
রংপুর সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প রয়েছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১ থেকে ৮ নম্বর জোনে সড়ক, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকার প্রকল্প।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহে ২ হাজার ৭৬৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকার প্রকল্পও বিবেচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৮১১ কোটি ৩৮ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ৯৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
এ ছাড়া প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবন সংস্কার ও আধুনিকায়নে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পঞ্চগড়ের ভজনপুর-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণে ২০৩ কোটি ৫২ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা তৈরিতে ১৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকার প্রকল্প রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বড় একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরো অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৯৮ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প ঋণ ও অনুদান ২ হাজার ১২৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৭৪ কোটি ৭১ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের ৩৫টি বাণিজ্যিক ও আটটি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং দুটি স্লিপওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনে ৭৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এতে মোট ব্যয় ২ হাজার ১৬৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনে ব্যয় ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ ৩২ হাজার টাকা করার পাশাপাশি মেয়াদ চতুর্থবার বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্বিতীয় সংশোধনে আরও ১ হাজার ৩১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৭ হাজার ৩৯ কোটি ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত হবে।