
রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের শরীরেও বাসা বেঁধেছিল ডেঙ্গু। অসুস্থ হওয়ার পরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন ৪২তম বিসিএসের চিকিৎসক আঁচল রায়। শেষ পর্যন্ত ডেঙ্গুর জটিলতায় মাত্র ৩০ বছর বয়সে মারা গেলেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এই চিকিৎসক।
রোববার সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ডা. আঁচল রায় ৪২তম বিসিএসের কর্মকর্তা এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ছিলেন। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি এফসিপিএস মিডটার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সম্প্রতি এমআরসিপি (ইউকে) পরীক্ষার পার্ট ওয়ানেও পাস করেন তিনি।
স্বজনেরা জানান, অসুস্থ হওয়ার আগের দিনও রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন আঁচল। এমনকি পরদিন ডেঙ্গু ইউনিটে তাঁর দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। এর আগেই ডেঙ্গুর জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জানান, প্রায় পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন তাঁর স্ত্রী। অসুস্থতার প্রথম দুই দিনও তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথমে সাধারণ কেবিনে রাখা হয় আঁচলকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে তাঁর শরীরে প্লাজমা লিকেজ বা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। এর সঙ্গে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, গুরুতর লিভার ইনভলভমেন্ট এবং একাধিক অঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়।
শনিবার রাত ১০টার দিকে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পরও রোববার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
আঁচলের এক ব্যাচ জুনিয়র সহকর্মী ও নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী এক চিকিৎসক জানান, আঁচল ওই মেডিকেল কলেজের সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী বিপ্লব দাস ছিলেন পঞ্চম ব্যাচের। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তাঁদের পরিচয় থাকলেও পরে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় তিন বছর সম্পর্কের পর তাঁরা বিয়ে করেন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের বয়স ছিল প্রায় ১৭ মাস। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না।
৪২তম বিসিএসে যোগ দেওয়ার পর আঁচল প্রথমে একটি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সরকারি চাকরির বাধ্যতামূলক উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্ব শেষ করে তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল নিউরোলজি বিভাগে। পরে তাঁকে শ্বাসতন্ত্র চিকিৎসা বিভাগে সংযুক্ত করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দিয়েছেন।
আঁচলের স্বামী বিপ্লব দাস জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে (নিপোর্ট) কর্মরত। আঁচলের পূর্বপুরুষের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হলেও তাঁর বেড়ে ওঠা ঢাকায়।
রোববার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর রাজারবাগ কালীমন্দিরের শ্মশানঘাটে আঁচল রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।