
শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৮ম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নেন ৫২ হাজার ২০০ প্রার্থী।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি’ প্রকল্পের আওতায় এ ভর্তি কার্যক্রম চলছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে আইটি প্রতিষ্ঠান ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
৮ম ব্যাচে ৪ হাজার ৮০০ আসনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৮১ হাজার ৪০০টি। যাচাই-বাছাই শেষে ৫২ হাজার ২০০ আবেদন বৈধ হিসেবে অনুমোদিত হয়। এসব প্রার্থীই শনিবারের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর কল্যাণপুরে কার্যক্রম পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। দেশের বিভিন্ন জেলাতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন।
কল্যাণপুরে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৫ হাজার ৫০০ প্রার্থী। একই সময়ে দেশের অন্যান্য জেলায়ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের প্রতি তাদের আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক পরীক্ষা হবে ২০ সেপ্টেম্বর। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচিত করা হবে। তাদের নিয়েই শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৮ম ব্যাচ।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির আওতায় এরই মধ্যে ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ বা ১২ হাজার ৩৫৪ জন দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব ফ্রিল্যান্সারের মোট আয় প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।