
সাভারে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার শোকাহত পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আশ্বাস দেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এসআই আলতাফ হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের কল্যাণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে এরই মধ্যে নিহতের পরিবারকে ৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আলতাফ হোসেনের পারিবারিক ব্যবসা চালু রাখার ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ দেওয়াসহ সার্বিক সহায়তা করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মরণোত্তর পুলিশ পদক দেওয়ার উদ্যোগ
কর্মজীবনে আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এ সময় নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে আর্থিক অনুদানের টাকা তুলে দেন তিনি।
যেভাবে হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ
গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন।
পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন। কিন্তু রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে সন্ত্রাসীরা সেখানে গিয়ে হামলা চালায়।
দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বর্বর হামলা চালানো হয়। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে আলতাফ হোসেনের ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত আলতাফ হোসেনের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।