
স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন বা প্রতীক নিয়ে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে না। আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।
সাক্ষাতে বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে সারাহ কুক ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। তিনি বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানান। পিপিপি মডেলেও বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম এগিয়ে নিতে একটি টিম গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এ সময় চলতি অর্থবছরের মাস পরিবর্তনের সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান ব্রিটিশ হাইকমিশনার।
সাক্ষাতে জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চান সারাহ কুক। জবাবে তাকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে না। ফলে কোনো দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় প্রতীকের ব্যবস্থাও থাকবে না।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মীর শাহে আলম বলেন, যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তাই কোনো রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের বিষয়ও এখানে প্রযোজ্য নয়। আইন অনুযায়ী যারা প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা পূরণ করবেন, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো সুযোগ থাকবে না।
তিনি বলেন, বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়ার। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে কোনো আলাদা অবস্থান নেবে না।
মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। এ কাজে সরকার কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। বৈধ প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তারা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যোগ্যতা পূরণকারী সব বৈধ প্রার্থীই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে।