
দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তার দাবি, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র মামলা ও নারী নির্যাতনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সাদপন্থিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর ও জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করা সমন্বিত এবং কেন্দ্রীয়ভাবে হালনাগাদ তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশের অপরাধ পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ২০২৫ সালের সঙ্গে তুলনা করলে প্রধান অপরাধগুলোর সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, সমস্ত ব্যারোমিটার বা সূচক অনুযায়ী দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। যদিও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী শতভাগ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আরও কিছু সময়ের প্রয়োজন, তবে বর্তমান সার্বিক চিত্রে সরকার সন্তুষ্ট৷
জেলা পর্যায় থেকে সংগৃহীত অপরাধসংক্রান্ত তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদর দপ্তরের রেকর্ড যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোনো তথ্যের ক্ষেত্রে ভুল বা বিভ্রান্তি থাকলে তা যাচাই করে সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে পুরোপুরি সক্রিয় করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং দ্রুত অভিযান পরিচালনা করছে।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এক শিক্ষিকার মৃত্যুর ঘটনাটি তুলে ধরে তিনি পুলিশের তৎপরতার কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয় এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে আরও কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতার করে এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে দেশজুড়ে ছিনতাইয়ের প্রবণতা কমছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও কমে আসবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নজরদারি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে অসহযোগিতা করছেন কিংবা গোপনে সরকারের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছেন—এমন কর্মকর্তাদের শনাক্ত করতে বিশেষ তদারকি চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি বাহিনীর নিজস্ব ‘ইন্টারনাল ইন্টেলিজেন্স’ বা অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। অসহযোগিতাকারী কর্মকর্তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণের কাছেও যদি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য থাকে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।