
দেশের প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগীর জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে।
নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন নয়, অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার বেশি রাখা হয়েছে।
নবম পে-স্কেল অনুযায়ী, মাসিক ৯ হাজার টাকা বা এর কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ৫৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং বর্তমানে তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা নতুন কাঠামো কার্যকর হলে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি অর্থ পাবেন।
নতুন পে-স্কেলে কর্মচারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। প্রথমবারের মতো চালু করা হচ্ছে ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’। এর আওতায় যোগ্য সরকারি কর্মচারীরা তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা পাবেন।
সরকারের হিসাবে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হতে পারে। তবে মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্কের (MTBF) আওতায় সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়ে এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সোমবার মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া এগিয়ে গেল।
মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। নতুন পে-স্কেল ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হওয়ায় প্রজ্ঞাপন জারির পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী বর্ধিত বেতন ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা সমন্বয়ের বিষয়টি কার্যকর হবে।