
দেশের বাজারে ফের বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এবার প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা নির্ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে বাজুস। ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই সংশোধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সারা দেশে জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হবে।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ১১.৬৬৪ গ্রাম অর্থাৎ এক ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। একইভাবে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৩ হাজার ১৮৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৫ হাজার ৯২০ টাকা করা হয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট নেওয়া যাবে না। এছাড়া নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
এর মাত্র তিন দিন আগেই, গত শনিবার (২২ আগস্ট) স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
সেই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ১ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১২ টাকা।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১০৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করেছিল বাজুস। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।