
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে ছড়ানো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। একই সঙ্গে এ ধরনের মিথ্যা ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তাও দিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, সম্প্রতি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, উসকানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তাদের দেশি-বিদেশি দোসররা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা, পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল করা এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ জোরালো আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পাশাপাশি অপপ্রচারকারীদের কোনো অন্যায় তদবির আমলে না নেওয়ায় অসন্তুষ্ট একটি মহল মনগড়া তথ্য দিয়ে এ ধরনের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত থাকার পাশাপাশি পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরে অন্যায় তদবির করা এবং অপপ্রচার না চালানোর শর্তে অর্থ দাবির তথ্য-প্রমাণও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক কোনো বক্তব্য বিশ্বাস, শেয়ার বা প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অপপ্রচার অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, জনগণের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর সদস্যরা দৃঢ় মনোবল, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কোনো অপপ্রচার যেন পুলিশ বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন করতে না পারে বা পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে, সে জন্য জনগণের সচেতনতা, সহযোগিতা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন একান্তভাবে প্রয়োজন।