
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীদের একটি বাসায় আটকে রেখে পর্ন ভিডিও তৈরি এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অভিযোগে এক দম্পতি, তাদের দুই ছেলে ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে চারজন ভুক্তভোগী তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং সহযোগী আব্দুর রহিম। তারা দীর্ঘদিন ধরে চৌমুহনী কিসমত করিমপুরে রাবেয়া হাসপাতালের পাশের একটি আবাসিক ভবনে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভুক্তভোগী তরুণী জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। এরপর রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়। অভিযুক্তদের বাসা থেকে ভিডিও ক্যামেরা, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবুক, একটি চাকু, একটি কেচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিকেলে এক ভুক্তভোগী তরুণী ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পার্লারে চাকরি দেওয়ার কথা বলে সালাউদ্দিন বিপ্লব ভুক্তভোগী তরুণীকে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে জোরপূর্বক যৌনকর্মে বাধ্য করে সেই দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়। একই বাসায় আরও তিন তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আটক তরুণীদের দিয়ে পর্ন ভিডিও তৈরি করা হতো। পরে সেসব ভিডিও ভিগো অ্যাপে ছড়িয়ে দিয়ে অর্থ উপার্জন করতেন অভিযুক্তরা। কোনো তরুণী প্রতিবাদ করলে তাদের চাবুক, ছুরি ও কেচি দিয়ে নির্যাতন করা হতো।
থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চার তরুণীকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।