
শিল্পায়নের গতি বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে সবুজ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) জানান, সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইপিজেডে বৃক্ষরোপণ করা হবে। এ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন ইপিজেডে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতেই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
সুজন মাহমুদ আরও জানান, বৈঠকে বেজার গভর্নিং বোর্ডের নবম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর মূল্যায়ন এবং সরকারি মালিকানাধীন অব্যবহৃত শিল্পসম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
সভায় নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলস ও লতিফ বাওয়ানী জুট মিলসের জমি এবং বিদ্যমান অবকাঠামো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়। এসব এলাকায় আধুনিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ ছাড়া বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর আবেদন ও লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ এবং নতুন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব।
সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।