
দেশের সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থায় কর্মরত সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবিলম্বে দশম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নতুন বেতন কাঠামো না থাকায় সাংবাদিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
সোমবার (৩ আগষ্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ দাবি জানানো হয়।
ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলমের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
সভায় ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন।
আলোচনা সভায় ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম বলেন, ‘২০০৭ সালের বিতর্কিত ১/১১ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দেশে আইনের শাসন, সুশাসন, ভোটাধিকার এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিতসহ মানুষের আত্মমর্যাদা ও অধিকার আদায়ে সাংবাদিক ইউনিয়ন ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। এই ধারাবাহিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। আন্দোলনে ভূমিকা রাখা ত্যাগী ও বেকার সাংবাদিকদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা এখন সময়ের দাবি।’
দশম ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সালে ঘোষিত নবম ওয়েজবোর্ডটি তৎকালীন সরকার অত্যন্ত বিতর্কিতভাবে জারি করেছিল। এরপর দীর্ঘ ৮ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। পূর্বের ওয়েজবোর্ডের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হলেও সাংবাদিকরা নতুন বেতন কাঠামো থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে দশম ওয়েজবোর্ড দ্রুত ঘোষণা করা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি বলেন, দশম ওয়েজবোর্ড কার্যকর হলে সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে এটি স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিএফইউজের সহ-সভাপতি মুহাম্মদ খায়রুল বাশারও দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড গঠন ও ঘোষণা করে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মারুফ কামাল খান সোহেল এবং যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, সহ-সভাপতি রাশেদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খানসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা আলোচনার শেষে সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা এবং এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।