
জনগণের অর্থ ব্যয়ে পরিকল্পনা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, অতীতের মতো অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ের সুযোগ আর রাখা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চাহিদা, উৎপাদন এবং বিতরণব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সভা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অননুমোদিত প্রকল্প গ্রহণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণবিষয়ক পৃথক দুটি বৈঠকে অংশ নেন তিনি।
জ্বালানি বিভাগের বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী দেশের খনিজ সম্পদের একটি সমন্বিত ও তথ্যভিত্তিক মানচিত্র তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের কোথায় কী ধরনের খনিজ সম্পদ রয়েছে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ভৌগোলিক ও তথ্যসমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা থাকা জরুরি। বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার কাছে ছড়িয়ে থাকা ব্লক ম্যাপ, ভূতাত্ত্বিক জরিপসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য একত্র করে একটি আধুনিক ও সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দেন তিনি। তার মতে, ভূগর্ভস্থ সম্পদের অবস্থান ও সম্ভাবনার নির্ভুল চিত্র থাকলে সরকারি বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহজ হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সারাদেশে অঞ্চলভিত্তিক জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তব চিত্র প্রস্তুত করতে হবে। কোথায় কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
পরে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের অননুমোদিত প্রকল্প গ্রহণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণবিষয়ক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের বিস্তারিত শুনে তিনি প্রতিটি প্রকল্পের যৌক্তিকতা এবং জনস্বার্থে এর কার্যকারিতা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের নির্দেশ দেন।
এ সময় তিনি বলেন, অতীতের মতো অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে জনগণের অর্থ অপচয়ের পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না। এ জন্য প্রতিটি প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সেবার মান এবং সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন।
সভায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ বিদ্যুৎ বিভাগ এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।