
বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সাম্প্রতিক চীন সফরে একটি চুক্তি হয়েছে এবং বাংলাদেশের কাঁঠালের প্রতি চীনা ভোক্তাদের আগ্রহও রয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২১তম দিনের বৈঠকে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুল হাসান তার নির্বাচনী এলাকা ফুলবাড়িয়ায় উৎপাদিত লেবু, আনারস ও কাঁঠালের বাজারজাতকরণ এবং সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—এমন প্রশ্ন উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ফুলবাড়িয়া এলাকায় আগে প্রতিষ্ঠিত কৃষিভিত্তিক কয়েকটি শিল্পকারখানা বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর মধ্যে একটি আনারস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পও ছিল। সরকার বর্তমানে এসব বন্ধ কারখানা ও কৃষি-সংশ্লিষ্ট মিল-ফ্যাক্টরি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ওই এলাকায় নতুন করে পৃথক কোনো শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারের নেই। বরং বিদ্যমান বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে আবার সচল করা যায়, সে বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কাঁঠাল রপ্তানির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফলের আন্তর্জাতিক বাজার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ফল ‘ডুরিয়ান’, যা দেখতে অনেকটা কাঁঠালের মতো, প্রতিবছর চীনে রপ্তানি করে দেশটি বিলিয়ন ডলার আয় করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশও একইভাবে জাতীয় ফল কাঁঠাল চীনের বাজারে রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। তিনি জানান, চীন সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তির ভিত্তিতে এই সম্ভাবনাময় রপ্তানি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।