
দেশের তৃণমূল রাজনীতিতে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি জানান, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনগুলো পর্যায়ক্রমে আয়োজন করা হবে। তবে কোন স্তরের নির্বাচনটি প্রথমে অনুষ্ঠিত হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য চলতি অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের মধ্যকার যৌথ আলোচনার ভিত্তিতে খুব দ্রুতই ভোটের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আগে প্রতিমন্ত্রী সমতল অঞ্চলের অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গৃহীত ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় সুবিধাভোগীদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ ও গবাদিপশু বিতরণ করেন।
এ সময় মীর শাহে আলম বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ জনকল্যাণমুখী উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার সমাজের সব জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে কাজ করছে। অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই জীবিকায়নের মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।"
পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর নিজস্ব ঐচ্ছিক তহবিল থেকে এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মানবিক রাষ্ট্র গঠনে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার এবং এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানের শেষ অংশে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নতুন সরকারি বাসভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব হবে।" তিনি আরও যোগ করেন, সরকারের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ ও মোকামতলা অঞ্চলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী সিহাদুল ইসলাম, শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান শাহীন, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাবসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।