
মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর আকস্মিক যৌথ সামরিক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এই মুহূর্তে তেহরানে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
এই রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে তিনি ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে খামেনির ওপর চালানো হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
ইরানের পাশে থাকার বার্তা, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল্যায়ন
দুই দেশের শীর্ষ আইনপ্রণেতার এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করে শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘মহামান্য’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘মর্মান্তিক মৃত্যুতে’ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এবং তার ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা’ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের এই জাতীয় শোকের কঠিন সময়ে দেশটির সরকার ও সাধারণ জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি জ্ঞাপন করেন স্পিকার।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আলোচনা চলাকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ‘কয়েক শতাব্দীর বন্ধুত্ব’ এবং দুই দেশের ‘গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে বন্ধনের’ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রেক্ষাপটে ইরানি স্পিকার গালিবাফের ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন বাংলাদেশের স্পিকার। তিনি আন্তরিকভাবে আশা প্রকাশ করেন যে, এই চুক্তি ইরানি জনগণ ও সামগ্রিক পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ‘স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
সংলাপের আহ্বান ও বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা আবারও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন হাফিজ উদ্দিন। তিনি প্রত্যাশা করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই চরম উসকানি পরিহার করে সংলাপ ও দূরদর্শী কূটনীতির পথ অবলম্বন করে যেকোনো বিরোধপূর্ণ বিষয়ের একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে পারবে।
বৈঠকের শেষপর্যায়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের স্পিকার গালিবাফকে তাঁর সুবিধাজনক যেকোনো সময়ে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান।
এর আগে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিতে গত বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন। তেহরান বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ইরানের ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযানের শুরুর দিকেই নিজ বাসভবনে প্রাণ হারান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি। এই ঘটনার জের ধরে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন আরব দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকার কারণে ওইসব দেশকে নিজেদের হামলার ‘বৈধ টার্গেট’ হিসেবে গণ্য করেছিল তেহরান।