
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আজ বাংলাদেশের উপস্থিতি ছিল মূলত কূটনীতি, জলবায়ু অর্থায়ন এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বিষয়কে ঘিরে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতা এবং জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বমিডিয়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।
ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং চীনের জলসম্পদমন্ত্রী লি গুওইংয়ের বৈঠকে তিস্তা নদীসহ অন্যান্য নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। দুই দেশ যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত স্থিতিশীলতা এবং জলনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান। চীনের দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বছরে ৩০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়নের বৈশ্বিক লক্ষ্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রয়োজন মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তিনি ধনী দেশগুলোর প্রতি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু তহবিল আরও সহজলভ্য করার আহ্বান জানান।
রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নতুন সরকারের পররাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বিষয়টিও উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণকে সামনে রেখে বাংলাদেশ নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্প এবং সম্ভাব্য নতুন চুক্তিগুলোও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ একদিকে যেমন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর পক্ষে বৈশ্বিক মঞ্চে জোরালো কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছে, অন্যদিকে চীনসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার কৌশলও অনুসরণ করছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি ও জলবায়ু কূটনীতির আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্ব আরও বাড়ছে।
বিশ্বমিডিয়ার আজকের আলোচনায় তাই বাংলাদেশকে দেখা গেছে—একদিকে জলবায়ু ন্যায্যতার দাবিদার দেশ হিসেবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী অংশীদার হিসেবে।