
দেশীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্প ও প্রতিরক্ষা খাতে অভূতপূর্ব অবদান রেখে চলা খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (খুশিলি) পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এ. কে. এম. শামছুল ইসলাম। বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত এই রাষ্ট্রীয় ডকইয়ার্ডের আধুনিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও চলমান অগ্রগতি তিনি স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন।
গত বুধবার (১৭ জুন) এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শিপইয়ার্ডের বিভিন্ন উৎপাদনমুখী স্থাপনা ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে তিনি সেখানে চলমান বিভিন্ন জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি তদারকি করেন এবং সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক নৌযান নির্মাণ, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে দেশের ব্লু-ইকোনমি ও জাতীয় সুরক্ষায় অনবদ্য ভূমিকা রাখছে খুশিলি। পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা, উৎপাদনশীলতা এবং কারিগরি উৎকর্ষতাকে আরও বেগবান করার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির বাস্তবায়ন এবং দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের অগ্রগতিতে খুলনা শিপইয়ার্ডের গুরুত্ব অপরিসীম বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ খাতের বিকাশ ও কারিগরি পেশাদারিত্বের জন্য প্রতিষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে উপদেষ্টাকে সেখানে নির্মাণাধীন এলসিটি, ড্রেজার, টাগ বোট, ক্রেন বোট, পাইলট ভেসেল, সার্ভে ভেসেল এবং সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ভেসেলসহ একাধিক স্পর্শকাতর প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি, গুণগত মান ও বিভিন্ন কারিগরি দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট ডেডলাইনের মধ্যে এসব প্রকল্প সফলভাবে শেষ করার লক্ষ্যে খুশিলির নেওয়া সুপরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা দেখে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এর পাশাপাশি, উপদেষ্টা খুলনা শিপইয়ার্ডের মূল উৎপাদন ও সহায়ক উইংগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে রয়েছে— প্লেটার শপ, মেশিন শপ, কার্পেন্ট্রি শপ, রাবার ফ্যাক্টরি, ডকিং শাখা এবং বিদ্যুৎ শপ। এ সময় তাকে ইয়ার্ডের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, দক্ষ জনবল, উন্নত অবকাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করেন কর্তৃপক্ষ।
পরিদর্শনের সমাপ্তিতে খুলনা শিপইয়ার্ডের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়ে উপদেষ্টা দেশীয় জাহাজ নির্মাণ ও সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে এই প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।