
জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ (এএসপিএজি)-এর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছেন বাংলাদেশের শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জেনেভা-এ জাতিসংঘ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকের আয়োজন করে জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।
১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলন (আইএলসি) চলাকালে আয়োজিত এ বৈঠকে আরব, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৪৭টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রায় ১৫ জন মন্ত্রীসহ শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে আইএলওর মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সহকারী মহাপরিচালকরাও বক্তব্য দেন।
এএসপিএজি-এর সমন্বয়কারী হিসেবে নাহিদা সোবহান বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ বক্তব্য দেন আব্দুর রউফ তালুকদার।
সভাপতির বক্তব্যে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এএসপিএজি-এর সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আইএলওর অন্যতম বৈচিত্র্যময় আঞ্চলিক গ্রুপ হিসেবে এএসপিএজি বিভিন্ন উন্নয়ন স্তর, অর্থনৈতিক কাঠামো, সংস্কৃতি এবং শ্রমবাজার বাস্তবতার দেশগুলোকে একত্রিত করেছে। এই বৈচিত্র্য সত্ত্বেও সামাজিক ন্যায়বিচার, শোভন কাজ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে।
শ্রমমন্ত্রী বহুপাক্ষিকতার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বৈশ্বিক শ্রম শাসনব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং গণতান্ত্রিক করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্য ও সমসাময়িক উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এএসপিএজি-এর বৈচিত্র্য শ্রম, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান বিষয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তিনি “Connecting Diversity, Advancing Unity” প্রতিপাদ্যের আলোকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শ্রম সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, ভবিষ্যতের কর্মজগত আজকের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও শোভন কাজের প্রসারে সহযোগিতা এবং সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এএসপিএজি-এর ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক শ্রমশক্তির প্রতিনিধিত্বকারী এএসপিএজি আইএলওর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক গ্রুপ। গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ এ গ্রুপটির আঞ্চলিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার ও অভিন্ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।